বিকাল ৩টার পর হাজার হাজার জনতা আনন্দ মিছিল বের করলে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজেই বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দ মিছিল করেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এদিকে সিলেটের মন্ত্রী-এমপিদের বাসভবনে ভাঙচুর, আগুন দেয়। অনুরূপ ঘটনা ঘটায় সরকারি স্থাপনাতেও। হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকদের বাসাতেও। একদল যুবক নগরীর শাপলাবাগ এলাকায় প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাসভবন ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পার্শ্ববর্তী পূর্ব শাপলাবাগ এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, গোপালটিলা এলাকায় অবস্থিত সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের সংসদ সদস্য রণজিত চন্দ্র সরকার এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সহসভাপতি আসাদ উদ্দিনের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
আকস্মিক হামলা চালায় সিলেট জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান আহমদ, নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদের বাসায়। নগরীর মীর্জাজাঙ্গালে হামলা হয় কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাটের বাসায়। সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে নগরীর মীর্জাজাঙ্গাল, দাঁড়িয়া পাড়া, বাগবাড়ি ও উপশহর এলাকায়। হামলা হয় নির্ম্বার্ক আশ্রমে।
এছাড়াও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। লুটপাট হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাহায়।
বিকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যখন এমন ঘটনা একের পর এক ঘটছে ঠিক এমন সময়েই হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র পুলিশ সুপার কার্যালয় লাগোয়া বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে।
এদিকে শাহজালালের পর এবার সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ করা হয়েছে। আপাতত ছয় ঘণ্টার জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিকাল ৫টা থেকে ছয় ঘণ্টার জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া গেলে আবার বিমানবন্দরটি সচল হবে।
অপরদিকে, সিলেটবাসীকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। বিবৃতিতে তারা, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর জনতার বিজয়কে দীর্ঘদিন থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শাহাদাত বরণকারী সবার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন।
পৃথক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও সিলেট মহানগর বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, এই বিজয় আমাদের শহিদদেরকে উৎসর্গ করলাম, এই বিজয় ছাত্রজনতার বিজয়। সবার সম্মিলিত আন্দোলনের কারণেই স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার পর সবাইকে শান্ত থাকতে হবে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। কারণ স্বৈরাচার ও খুনি শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা ইতিমধ্যে মুক্তিকামী জনতার সঙ্গে মিশে গিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম শুরু করেছে। এদের থেকে সজাগ থাকতে হবে।
জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনোভাবেই কোন সরকারি/বেসরকারি স্থাপনা, যানবাহন ও কোনো কিছুই ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করা যাবে না। আমরা ইতিমধ্যে খবর পেয়েছি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসীরা মুক্তিকামী জনতার নাম ভাঙ্গিয়ে ইতিমধ্যে অপকর্ম শুরু করেছে। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। যেখানেই এদেরকে পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।
তারা বলেন, সর্বোপরি পরবর্তী দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা সিলেটবাসীকে শান্ত থাকার এবং এই বিজয়ের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করার জন্য আহবান জানাই।