জহির শাহ্ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দবাজার এলাকায় সরকারি জমিতে ট্রাকস্ট্যান্ডের বন্দোবস্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় নিরাপত্তা, যানজট এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বলা হয়—নদীর তীর এবং বাঁধ সংলগ্ন ওই সরকারি জায়গায় ট্রাকস্ট্যান্ড স্থাপন নিরাপদ ও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। মতামত পাওয়া না হওয়া পর্যন্ত জায়গাটি কাটাতারের বেড়া দিয়ে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে, যাতে অননুমোদিত ব্যবহার এড়িয়ে চলা যায় এবং জনসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম সভার সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসন, জেলা রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ও অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধিরা। এছাড়া ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে মতামত দিয়েছেন। সকল পক্ষই সম্মত হয়েছেন—স্থানটি ব্যবহারের আগে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও যানজটের প্রভাব বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেসমিন সুলতানা বলেন, “এই জায়গা নদীর পাড় এবং বাঁধের সংলগ্ন, তাই যে কোনো কার্যক্রমের প্রভাব বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে দেখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—
১. ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে সম্ভাব্য যানজটের সমাধান,
২. নদী তীর এবং বাঁধের নিরাপত্তা,
৩. স্থানীয় ব্যবসা ও জনস্বার্থের রক্ষা,
৪. সরকারি জমির অননুমোদিত ব্যবহার প্রতিরোধ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডাররা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আলোচনায় রাজি হয়েছেন। জেলা প্রশাসনও মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় রেখে সকল পক্ষের স্বার্থ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় কাটাতারের বেড়া দিয়ে নজরদারি চলবে। সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
