দেশের ৬৮টি জেলে মায়ের সঙ্গে ৩০৪ শিশু কারাবাস করছে। এই হিসাব চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চাইল্ডস রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) আসকের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৮টি জেলে অন্তত ৩০৪ শিশু মায়ের সঙ্গে কারাবাস করছে। হবিগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এক মামলায় মায়ের মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় তার সঙ্গেই ফাঁসির সেলে থাকছে তার ১০ মাস বয়সী সন্তান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফাঁসির সেল ১০ ফুট বাই ১০ ফুট। সেগুলোতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং সরাসরি পানির ব্যবস্থা নেই। দিনে দেড় ঘণ্টার জন্য সেলের তালা খোলা হয়। সারা রাত জ্বলে উচ্চ আলোর বৈদ্যুতিক বাতি। একজন সশ্রম কারাবন্দীকে যতটুকু খাবার দেয়া হয়, ফাঁসির সেলে বন্দী মায়েদেরও একই নিয়মে খাবার দেয়া হয়।
অন্যদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত আরেকটি সংবাদে দেখা যায়, ঋণের নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পুলিশ এক মা ও তার বাচ্চাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
কারাগার কোনোভাবেই শিশুর জন্য আদর্শ স্থান হতে পারে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে দণ্ডপ্রাপ্ত মায়ের সন্তানদের অধিকার বিবেচনায় নেয়া হয় না। বরং মায়েদের সঙ্গে শিশুদেরও শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে, তারা একটি স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশের সব শিশুর সুরক্ষা প্রদানের বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কোয়ালিশন মনে করে, বিদ্যমান আইনি কাঠামো দণ্ডপ্রাপ্তর সন্তানের অধিকার সুরক্ষায় যথেষ্ট নয়। কোয়ালিশন তাই এই বিশেষ পরিস্থিতির শিকার শিশুদের ‘সর্বোত্তম স্বার্থ’ বিবেচনায় নিয়ে তাদের মানবাধিকার রক্ষা ও শারীরিক-মানসিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় আইন, প্রবিধান বা নীতিমালা প্রণয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে।
একইসাথে কারাগারে শিশুদের বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মা এবং তাদের সন্তানদের বয়স ও পুষ্টি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিমিত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানায় সংস্থাটি।
