গত ১২ দিনে দেশের সবকিছুতে ওলট-পালট হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পতনে দেশের সবক্ষেত্রে পরিবর্তনের দাবি, ক্রীড়াঙ্গনেও দাবি ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে। আর সেই সুযোগে দেশের ফুটবলের চেয়ার টানাটানি শুরু হয়েছে। চেয়ার দখলের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়েছে, কীভাবে বর্তমানকে সরিয়ে চেয়ারে বসা যায়। এভাবে ভুল পথে ফেডারেশন নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করলে বিপদে পড়বে দেশের ফুটবল।
পৃথিবী জেনে গেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হয়েছে। বর্তমান অবস্থা কী। শুধু জাতিসংঘ নয়, ফিফাও জানে এসব কথা। কিন্তু কোনো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত না ফিফা। তারা দুশ্চিন্তা করে না সদস্য দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ভিন্ন কথা, কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমলে নিতে চায় না। তার জলন্ত প্রমাণ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের দলবদলের সময় বাড়ায়নি ফিফা। খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ানো যাবে না।
সরকার পতনের পর এক দল আবার দেশের ফুটবল নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে চেয়ারে বসার পরিকল্পনা করছেন। আন্দোলন করার জন্য ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দেশের ফুটবলে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা বারবার বাফুফের সভাপতি আসতে চেয়েও আসতে পারেননি, তারা সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রূপে দেশের ফুটবল ফেডারেশন নিয়ে টানাটানি শুরু করেছেন। নিজেরা মুখোমুখি না হয়ে অন্যদেরকে তর্ক-বিতর্কের মঞ্চে পাঠাচ্ছেন।
যারা ফিফা সম্পর্কে না জেনে, না বুঝে কথা বলছেন তারা দেশের ফুটবলকে বিপদে ঠেলে দিচ্ছেন। ফিফা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণ করে না। কথাটা সবাই জানেন। তাহলে বাফুফের ক্ষমতায় আসতে চাওয়া মানুষগুলো কেন অন্তরাল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। হয় তারা ফিফা সম্পর্কে জানেন না, নতুবা জেনে শুনেই দেশের ফুটবলকে বিপদে ফেলতে চাইছেন। আর 'ফুটবল' পরিচয়ে কিছু মানুষ রয়েছেন তারা হাততালি দিচ্ছেন। কিছু মানুষ রয়েছেন যারা সালাহউদ্দিনের সময়ে দেশের ফুটবলের ক্ষতি হলে খুশি হন, কিন্তু তারা ভাবেন না দিন শেষে ফুটবলটা আমাদের, আমরা ফুটবল পরিচয়ের মানুষ।
ক্রিকেটে এমনটি কখনো দেখা যায় না, তারা সমালোচনা করার সময় ক্রিকেটাকে বাঁচিয়ে রেখে সমালোচনা করেন। আর 'ফুটবল' পরিচয়ের মানুষগুলোর মধ্যে সেই ভালোবাসাটা দেখা যায় না। বাফুফেতে নিজে চেয়ার পেলে সব ভালো, আর না পেলে সব খারাপ। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘোলা পরিস্থিতিতে ফায়দা নিতে কয়েকজন চেষ্টা করছেন। বাফুফের বাইরে এবং বাফুফের ভেতরেও রয়েছেন এমন মানুষ, তারা দূরে বসে কাঠি নাড়ছেন। গুঞ্জন রয়েছে 'পরিস্থিতি বিবেচনায় যদি বলটা নিজের পায়ে চলে আসে তাহলে গোলটা আমি-ই করতে পারব।'
আগামী অক্টোবরে বাফুফের নির্বাচন, লড়াই করার সুযোগ রয়েছে নির্বাচনে। কেউ জিতবেন, কেউ হারবেন। যারা জিতবেন তারা বাফুফে পরিচালনা করবেন আর যারা হেরে যাবেন তারা ফুটবলের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, যদি ফুটবলের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকে। বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। সালাহউদ্দিনের ব্যক্তিগত ক্ষতি হবে না।
সালাহউদ্দিন যদি পদত্যাগ করে সরে যান তাহলে বিপদে পড়বে দেশের ফুটবল। ফিফা জানতে চাইবে কী কারণে পদত্যাগ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কাজী সালাহউদ্দিনের ব্যাপক পরিচিতি এবং সুনাম রয়েছে। ওপেনহার্ট সার্জারির সময় ফিফাও খোঁজ নিয়েছিল। সুস্থ হয়ে ফেরা সালাহউদ্দিন কেন ফেডারেশন থেকে পদত্যাগ করলেন সেটা ফিফা আমলে নেবে। আর সেটাই হবে দেশের ফুটবলের জন্য সবচেয়ে বড় অমঙ্গল।
বাফুফেতে সবার নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে। কেউ কাউকে আটকে রাখতে পারবে না। অন্য কেউ সভাপতি নির্বাচন করার ঘোষণা দেননি। তার আগেই সভাপতি পদে পুনরায় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন কাজী সালাহউদ্দিন। তিনি যদি নির্বাচন করেন আর নির্বাচিত হন তাহলে একরকম আর নির্বাচিত না হন, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবে না ফিফা। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে অন্য কোনো ঘটনা ঘটলে সে দায় কারা নেবেন।