দূরন্ত বিডি ডটকম -----------স্বাগতম ২০২৫------------মানবতার কথা বলে ---------- durontobd.com--------ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ চাই, “জুলাই” মনে রেখে ভোটের নিশ্চয়তা চাই, অর্থনৈতিক মুক্তি চাই। প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, নবীনগরে উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট - Durontobd

সংবাদ শিরোনাম

.jpg

Wednesday, October 8, 2025

প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, নবীনগরে উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট


নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে লাউর ফতেহপুর বাশারুক বাজার থেকে বিটঘর পর্যন্ত প্রায় ৩.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৮ ফুট প্রস্থের পিচঢালা এই সড়কে চারটি সেতু নির্মাণের কথা রয়েছে।



তবে, সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। সড়কের বিভিন্ন অংশে ব্যবহৃত হচ্ছে দুই নম্বর ইট ও অপর্যাপ্ত বালু। কোথাও কোথাও ইটের বদলে ফেলা হয়েছে সাধারণ মাটি। ফলে পাকা হওয়ার আগেই সড়কের কিছু অংশ ধসে গেছে।



স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই সড়ক নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের আশা ছিল। কিন্তু কাজের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সবাই।



লাউর ফতেহপুর এলাকার হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তারা যে ইট দিয়েছে, সব দুই নাম্বার। অনেক জায়গায় তো ইটই দেয়নি। এই কাজের মান যদি তদন্ত হয়, সব বের হয়ে যাবে। আমরা চাই সরকারি তদন্ত হোক।’



স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, বহু বছর রাস্তাটা ছিল অচল। এখন কাজ শুরু হলেও কোনো মান নেই। নিম্নমানের ইট দেওয়ার ফলে রাস্তা বেশি দিন টিকবে না।


একই অভিযোগ পথচারী শামীম মিয়ার, তিন বছর রাস্তা ফেলে রাখার পর দলীয় প্রভাবে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো গুণগতমানের কোনো তদারকি নেই।


স্থানীয়দের দাবি, ‘ইউনুসেন ব্রাদার্স’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজটি নিয়েছে। কাজের মান রক্ষার চেয়ে দ্রুত কাগজপত্রে কাজ দেখিয়ে বিল তোলাতেই তাদের বেশি আগ্রহ।



একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক জানান, আমাদের বলা হয় বেশি বালু দিও, ইট কম দাও। অনেক জায়গায় মাটি দিয়েই ভরাট করতে হয়। আর যারা তদারকি করতে আসে, তাদের আগেই ম্যানেজ করা থাকে।



লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রথম দিকে কাজের মান খুবই খারাপ ছিল। আমরা চাপ না দিলে ঠিকাদার যেমন খুশি তেমনভাবে কাজ শেষ করে দিত। এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এখনও সন্তোষজনক নয়।



এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘ইউনুসেন ব্রাদার্স’-এর সাইট ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ চলছে। যারা অভিযোগ করছে, তারা হয়তো প্রকল্পের অগ্রগতি বুঝতে পারছে না।



এদিকে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রয়োজনে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসককে অবগত করা হবে। আমরা চাই, গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ হোক, যাতে জনগণের ভোগান্তি না হয়।