দূরন্ত বিডি ডটকম -----------স্বাগতম ২০২৫------------মানবতার কথা বলে ---------- durontobd.com--------ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ চাই, “জুলাই” মনে রেখে ভোটের নিশ্চয়তা চাই, অর্থনৈতিক মুক্তি চাই। কাল মানবাধিকার দিবস - রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অধিকার চাই - Durontobd

সংবাদ শিরোনাম

.jpg

Saturday, December 9, 2023

কাল মানবাধিকার দিবস - রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অধিকার চাই


জাতীয় প্রতিবেদক :
আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছেন, সভা-সমাবেশে যোগ দেওয়া অপরাধ নয়, এটা সাংবিধানিক অধিকার। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অধিকার চাই। 


১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে দিনটিকে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৭৫ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাণীতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের সব নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। 


তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার ও চাহিদা নিশ্চিতের পাশাপাশি, সবার নিরাপত্তা বিধান, স্বাধীনতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখাই মানবাধিকার। মানবাধিকার একটি বিশদ ও সামগ্রিক বিষয়। 


রাষ্ট্রপতি বলেন, দুঃখের বিষয়, একবিংশ শতাব্দীতে ও বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় প্রতিনিয়ত আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর এদেশে মানবাধিকার বলে আর কিছু ছিল না। খুনিদের যাতে কেউ বিচার করতে না পারে, সেজন্য দায়মুক্তি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে আমাদের স্বজনদের হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। 


তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। 


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক বাণীতে বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকারের ত্বোয়াক্কা করে না। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের কোনো অধিকার নেই। জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ও গায়েবি সাজা দেওয়ার হিড়িক চলছে। 


এদিকে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার ‘গুম-খুন, ক্রসফায়ার, কারা নির্যাতন বন্ধ করো! মানবাধিকার লঙ্ঘন রুখে দাঁড়াও!’ শীর্ষক মানবপ্রাচীরের আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’। 


সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, এই সরকার গুম খুনের বিচার তো করছেই না, উল্টো অন্যায় অত্যাচার ও গণগ্রেফতার চালিয়ে যাচ্ছে। আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অধিকার নেই আমাদের। মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম পর্যায়ে আমরা আছি। আমাদের কথা শোনার মতো সাহসও নেই সরকারের।


জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করেছে। 


র‌্যাবের হেফাজতে নওগাঁর সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে বলেন, র‌্যাব তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রতিবাদ করেছি। 


তিনি বলেন, এটা কোনো র‌্যাবের কাজ নয়। এখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা র‌্যাবকে অনেকটা প্রভাবিত করেছে জেসমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, এটা অন্যায় করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আমরা অপেক্ষা করছি যে বিচারটি কি হয়। 


তিনি বলেন, আমাদের জনবল ছিল ৬৫ জন। আরও ১৭ জনের নিয়োগ হচ্ছে। আমাদের দাবি ছিল ৮ বিভাগে আটটি অফিস, আইন মন্ত্রণালয় সেটি করে দেবে বলেছে। অফিস পেলে কমিশনের কাজ আরও বিস্তৃত হবে। 


সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন : শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন। সভায় বক্তরা বলেন, ফিলিস্তিনে নির্বিচারে শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে- সে সময়ে জাতিসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দায়সারা ভূমিকা পালন করছে। অথচ বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।