ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সরকারি মহিলা কলেজ মার্কেটকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক ক্রমেই উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। সোমবার থেকে জেলা কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতি শহরের সমস্ত ফার্মেসি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে কলেজ মার্কেটে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসা মালিকরা কলেজ কর্তৃপক্ষের “অবৈধ দোকান” হিসেবে উচ্ছেদ ঘোষণা ও নতুন গেইট নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন।
সোমবার সকাল ৬টা থেকে শহরের সহস্রাধিক ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় রোগী, সাধারণ মানুষ এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। জেলার সদর হাসপাতাল ও শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগীরা প্রতিদিন ফার্মেসির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় তারা প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না, ফলে অনেকেই শহরের বাইরে গিয়ে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ধর্মঘটের সময় ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মার্কেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বক্তব্য রাখেন জেলা কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছানাউল হক ভূইয়া, পৌর শাখার সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও খোকন খান। তারা অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ দোকান স্থানান্তরের জন্য পূর্বে দেওয়া ছয় মাস সময়ের দাবী উপেক্ষা করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, অবিলম্বে উচ্ছেদ বন্ধ করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রদান করা হোক।
স্থানীয়রা হতাশা প্রকাশ করেছেন। একজন রোগী বলেন, “ডাক্তার দেখানোর পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ ফার্মেসি বন্ধ থাকার কারণে পাচ্ছি না। এতে আমাদের স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে, ঝুঁকি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছে।”
এদিকে, কলেজ মার্কেটের সামনে কিছু শিক্ষার্থীও অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও নতুন গেইট নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শহরের ব্যবসায়িক ও স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশকে ক্রমেই অস্থিতিশীল করেছে।
জেলা কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সকল ফার্মেসি বন্ধ রাখার কর্মসূচি চলবে। তারা সরকারী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাচ্ছেন।
শহরের ব্যবসা, রোগী ও সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি চান, অন্যথায় শহরের স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
