জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের বন্ধু পরিচয়ে প্রতারণার দায়ে ভাটারা থানার মামলায় আশরাফুল ওমর উজ্জ্বল নামে একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম এ রায় ঘোষণা দেন। এ সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মেহেদী ইমাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৩ জুলাই আদালতে আশরাফুল ওমর উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
মামলার এজাহারে মেহেদী বলেন, বিবাদী আশরাফুল ওমর উজ্জ্বল ভাটারা থানাধীন নর্দায় আমার জাপান মোটরস শোরুমে গাড়ি কিনতে আসে। তখন সে নিজেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন খেলোয়াড় ও সাবেক আন্ডার নাইন্টিনের অধিনায়ক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপির ছোটভাই, সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের ছোটভাই ও মুশফিকুর রহিমের বন্ধু এবং বর্তমান ক্রিকেটার অনেকের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্রিকেটার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ছবি দেখিয়ে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বাস স্থাপন করায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলসহ সিনিয়র ক্রিকেটারদের আমার শোরুমে নিয়ে আসবে এবং তাদের ভিডিও করে ইউটিউবে ছেড়ে দিলে শোরুমে গাড়ি বিক্রয় ভালো হবে বলে আমাকে প্রলোভন দেখায়। পরে সে আমার কাছে টাকা ধার হিসেবে চায় এবং বলে আমি যখন গাড়ি কিনব, তখন সব টাকা পরিশোধ করে দেবে। আমি সরল বিশ্বাসে দুই দফায় তাকে ১ লাখ টাকা দিই।
বিবাদীর কাছে আমার পাওনা টাকা চাইলে সে টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকে। পরে আমি জানতে পারি মোহাম্মদ আশরাফুল ও মেহরাব হোসেন অপি পরিচয়ে যাদের সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করিয়ে দেয়, তারা কেউ-ই মোহাম্মদ আশরাফুল ও মেহরাব হোসেন অপি নয়; বরং অন্য কাউকে মোহাম্মদ আশরাফুল ও মেহরাব হোসেন অপি সাজিয়ে যোগাযোগ করেছে।
