দূরন্ত বিডি ডটকম -----------স্বাগতম ২০২৫------------মানবতার কথা বলে ---------- durontobd.com--------ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ চাই, “জুলাই” মনে রেখে ভোটের নিশ্চয়তা চাই, অর্থনৈতিক মুক্তি চাই। স্পট আফগানিস্তান :মায়েরা অসহায়, ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না থামাতে ঘুমের ওষুধ দিচ্ছে - Durontobd

সংবাদ শিরোনাম

.jpg

Monday, December 18, 2023

স্পট আফগানিস্তান :মায়েরা অসহায়, ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না থামাতে ঘুমের ওষুধ দিচ্ছে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
‘দুই মাস আগে শেষবারের মত আমি আমার বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে পেরেছিলাম। সাধারণত তার দুধের বোতলে আমি চা ভরে রাখি। সেই চায়ে পাউরুটি ভিজিয়ে তাকে খেতে দেই।’ আফগানিস্তানের কাবুল শহরের পাহাড়ের ওপর একটি মাটির ঘরের মেঝেতে বসে কথাগুলো বলছিলেন সোহাইলা নিয়াজি।


সোহাইলা একজন বিধবা। তার ছয়টি বাচ্চা। সবচেয়ে ছোট মেয়ের বয়স ১৫ মাস। তার নাম হুসনা ফাকেরি। সোহাইলা নিয়াজির বাড়িতে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। খাড়া মাটির ঢাল বেয়ে তার ঘরে যেতে হয়। তার ঘরের চারদিকে সারাক্ষণ নর্দমার পানি জমে থাকে।


আফগানিস্তানে ঐতিহ্য হিসেবে চা খাওয়া হয়। শুধু গরম পানিতে মেশানো হয় সবুজ পাতা। এতে দুধ কিংবা চিনি দেয়া হয় না। এটা অবশ্যই শিশুদের খাবার নয়। কারণ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো পুষ্টি উপাদান এতে নেই। অথচ সোহাইলা নিয়াজির বাচ্চার মতো অনেক আফগান ক্ষুধার্ত শিশুর একমাত্র খাবার এই চা।
 

সোহাইলা সেই এক কোটি মানুষদের একজন যারা গত কয়েক বছর ধরে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির খাবার সহায়তা পাচ্ছেন না। তহবিল সংকটের কারণে এই সহায়তা কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে জাতিসংঘ। 
 
 
এদিকে তালেবানের শাসনে থাকার কারণে সোহাইলা বাইরে যেতে পারেন না। এ কারণে পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেন না তিনি। আর তাই অনেক রাত না খেয়েই ঘুমাতে যেতে হয় তাদের। 
 

সোহাইলা যেমনটা বলছিলেন, ‘এমন অনেক রাত আসে যখন খাওয়ার মত আমাদের কিছুই থাকে না। আমি তখন আমার বাচ্চাদের বলি, রাতের বেলা আমি কোথায় ভিক্ষে করতে যাব?’
 

সোহাইলা ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘তারা একটি ক্ষুধার্ত রাষ্ট্রে ঘুমিয়ে পড়ে। আবার সকালে তারা যখন জেগে ওঠে, তখন ভাবতে থাকি এখন আমি কি করব?

 
এই অসহায় নারী বলতে থাকেন, প্রতিবেশীরা যদি কোনো খাবার দিয়ে যায়, বাচ্চারা আমি খাব, আমি খাব বলে কাড়াকাড়ি শুরু করে। আমি খাবারটা কয়েক টুকরো করে তাদের খেতে দেই।’
 

এরপর হৃদয়বিদারক কথাটি বলেন সোহাইলা। তিনি জানান, সবচেয়ে ছোট বাচ্চাটিকে শান্ত করার জন্য তিনি তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান।
 
 
নির্লিপ্ত কণ্ঠে সোহাইলা বলেন, ‘আমি তাকে ঘুমের ওষুধ দেই যাতে সে জেগে না ওঠে আর দুধের জন্য কান্নাকাটি না করে। কারণ ঘরে তাকে দেয়ার মত কোনো দুধ নেই। ঘুমের ওষুধ দেয়ায় সে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে জেগে ওঠে। মাঝেমাঝে তাকে পরখ করে দেখি, সে ঘুমিয়ে পড়েছে না মারা গেছে।’
 

সোহাইল তাকে যে ঘুমের ওষুধটা দেন সেটা অ্যালার্জি ও ঠাণ্ডা উপশমকারী। সেটা খেলে ঘুম হয়। তবে এর অতিরিক্ত ডোজ শ্বাসযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।
 

সোহাইলা জানান, তার স্বামী একজন সাধারণ দিনমজুর ছিলেন। ২০২২ সালে পাঞ্জশির প্রদেশে তালেবান ও জঙ্গি গোষ্ঠীর ক্রসফায়ারের মধ্যে পড়ে মারা যান তিনি।
 

শ্বামীর মৃত্যুর পর সোহাইলা পুরোপুরি জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির সহায়তার ওপর নির্ভর হয়ে পড়েন। আটা, তেল ও সবজি দেয়া হত তাকে। সহায়তা বন্ধ হওয়ার পর এখন প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে ধার করে দিন চলে সোহাইলার।
 

কিন্তু দীর্ঘদিন পুষ্টিকর কিছু না খেতে পেয়ে তার সবচেয়ে ছোট মেয়ে হুসনা ধীরে ধীরে নিস্তেজ ও চুপচাপ হয়ে পড়ছে। কিন্তু জাতিসংঘ  খাদ্য কর্মসূচির সহায়তা এখনও অনিশ্চিত। তারা বলছে, তারা শুধু ৩০ লাখ মানুষকে সহায়তা দিতে পারবে।
  

ইউনিসেফ’র তথ্য মতে, আফগানিস্তানে এখন ৩০ লাখ পুষ্টিহীন শিশু রয়েছে। সুহাইলার মেয়ে হুসনা তাদের একজন। এসব শিশুর একটা বড় অংশ ভয়াবহ অপুষ্টির শিকার।
 

আফগানিস্তানে শিশুদের এত খারাপ অবস্থা এর আগে কখনও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এবং যখন শিশুদের একটা বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছে , তখনই খাদ্য সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হয়। অথচ এই সহায়তা কিছুটা হলেও তাদের জন্য সহায়ক হত।
 

২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতায় পরিবর্তন আসার পর রেডক্রস প্রায় ৩০টি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন, ওষুধ ও খাবার বাবদ তহবিল দিত। কিন্তু এখন এই সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার মত সামর্থ্য নেই বলে জানিয়েছে রেডক্রস।
 

শুধু তাই নয়, দেশটির একমাত্র শিশু হাসপাতাল ইন্দিরা গান্ধী শিশু হাসপাতালের সহায়তা তহবিলও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ডাক্তার ও নার্সদের বেতন তালেবান সরকার বহন করছে।
 

কাবুলের ইন্দিরা গান্ধী শিশু হাসপাতালের অপুষ্টি ওয়ার্ড অপুষ্ট শিশুতে ভরে গেছে। ওয়ার্ডে সুমাইয়া নামের ১৪ মাস বয়সী একটি শিশুকে দেখলে যে কেউ অবাক হবেন। তার ওজন একটা সদ্যজাত বাচ্চার চেয়ে বেশি নয়। তার মুখ দেখে মনে হবে, তার বয়স অনেক বেশি।

 
তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, অর্থ সহায়তাদানকারী দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশেষ করে করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর সহায়তা কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে বিদেশী সহায়তার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদারকে তারা রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান মুজাহিদ।